শিরোনামঃ
তালায় যুবলীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিন পালন শেখ ইমাম উদ্দীন সংসদের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা করোনাকে উপেক্ষা করে ১০ লক্ষ পথশিশু যখন রাস্তায় ইউ পি নির্বাচন : জনপ্রিয়তায় এগিয়ে এস.এম লিয়াকত হোসেন তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের মায়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন তালায় ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে সমাবেশ তালার কলাগাছির জনপদের মানুষ রয়েছে চরম অবহেলা আর বঞ্চনার মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষগণ ষড়যন্ত্রমুলকভাবে সরদার মশিয়ার রহমানকে আসামী করা হয়েছে তালায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একজনকে কুপিয়ে জখম তালায় টিআরএম বাঁধ সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন

করোনাকে উপেক্ষা করে ১০ লক্ষ পথশিশু যখন রাস্তায়

আজ বাংলা মতামত ||

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৪৭
  • ১৫৬

রিয়াদ হোসেন || শিশু শব্দটাই যেন এক ধরনের ভালবাসা, আদর, মমতার সংমিশ্রণ । শিশুকে ভালোবাসে না এমন মানুষ হয়তোবা বিরল।তবে হ্যাঁ পথশিশুকে ভালোবাসেনা এমন মানুষ কিন্ত আপনার আমার পাশে অগণিত রয়েছে।একজন শিশু যখন পথশিশু, টোকাই, রাস্তার ছেলে বলে পরিচিত লাভ করে তখন এই সমাজ তাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখতে শুরো করে । কেন একজন শিশু আজ পথশিশু হয়েছে ? কেন একজন শিশু আজ টোকাই বলে পরিচিত ? কেন একজন শিশু রাস্তার ছেলে বলে আমরা ডাকি ?

জানি এর কোন গ্রহণযোগ্য উত্তর পাব না।তারপরও দিন দিন বেড়েই চলেছে এই পথশিশুর সংখ্যা। আসলে এর মূলে রয়েছে আমাদের অজ্ঞতা, দরিদ্রতা, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব। আমার সমাজে এমন এক শ্রেনির মানুষ এখনোও বসবাস করছেন যাদের অপরিকল্পিত ভাবে সন্তান জন্মদানে আজ এমন কঠিন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে আমাদের। আজ করোনায় পৃথিবীর এই ক্লান্তিলগ্নে কেমন আছে আমাদের পথশিশুরা?

উত্তরে হয়তোবা ভিন্নমত আসবে।ভিন্ন যুক্তি আমরা দেখাবো। কিন্ত আসলেই তারা কেমন করে দিন পার করছে,কিভাবে পেটে দু’মুঠো ভাত যাচ্ছে তার ইতিহাস আপনি আমি জানলেও প্রকাশ করতে চাইবো না।আর কেন বা চাইবো?প্রকাশ করলে তো এই সমাজ আপনাকে আমাকে এই দোষে কাটগড়ায় দাঁড় করাবে।আসলে মানুষের মানবতা এবং মনুষ্যত্ব দিন দিন হ্রাসের পথে।যার ফলে পথশিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।করোনার কারনে আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা।সাধারনত তিন বেলা ভাত জোটে না তাদের আর তার ওপর এই মহামারিতে কখনোও একবেলা কখনওবা না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে তাদের। রাজধানী শহর ঢাকা আজ ফাঁকা।মহামারি করোনার কারনে শহরের বেশিরভাগ মানুষ আজ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে আসছে। তাদের তো গ্রামে এসে দু’দিন মাথা গোজার মতো ঠাই আছে বলেই চলে আসলো।কিন্তু ওই পথশিশুরা আজ কোথায় যাবে?

তাদের তো গ্রামের বাড়ি দূরে থাক ওই নিষ্ঠুর শহরের ওপরও মাথা গোজার ঠাই নেই। অন্ন, বস্ত্র,খাদ্য,চিকিৎসা,বাসস্থান সবই তো মৌলিক অধিকার।তবে এই অধিকারের কোন অংশটুকু এই শ্রেনির শিশুরা পেয়ে থাকি তা আপনি আমি ভালোই জানি। সর্বশেষ ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ । এর মধ্যে আড়াই লাখ শিশু ছিল রাজধানীতে।যদিও বিভিন্ন জরিপে বাংলাদেশে এই পথশিশুর সংখ্যা নিদিষ্ট করে কোন তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। তবুও আমরা যদি সেই ১০ লাখ শিশুকেই ধরে পথ চলতে থাকি তবুও দেখবো করোনার প্রভাবে তারা আজ অনাহারে,বিনা চিকিৎসায় আধ মরা অবস্থায় শহরের ল্যাম্পপোস্ট, ওলিতে গলিতে শুয়ে আছে। করোনায় আপনার আমার পরিবারের ছোট ছোট ছেলে মেয়ে গুলোকে বাইরে বের হতে দিচ্ছি না।ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছি তাদের সাথে।

কিন্ত একবারও কি ভেবেছেন এই ১০ লাখ পথশিশুদের ঘরে ডাকার মতো কেউ নেই।হাসি মুখে তাদের সাথে কিছুটা সময় দেওয়ার কেউ নেই। তারা এই সংক্রামক ব্যাধিতে কেমন করে নিজেদের রক্ষা করবে সেই পথটাই তাদের জানা নেই।তারা জানে না কি করলে এই করোনা তাদের মাফ করবে।এমনকি তারা এটাও জানে না করোনায় মানুষের কি হচ্ছে।তারা শুধু জানে সকালে কিছু খেতে হবে।খেয়ে বের হতে হবে বোতল,পলিথিন সহ আরো বেশ কিছু ফেলনা জিনিস কুড়াতে।দিন পার করতে এবং রাতের অপেক্ষায় রাস্তায় ঘুমাতে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক সমাজকর্মীর একটি স্টাটার্স দেখলাম তিনি লিখেছেন,”আপনার আমার ঘরে থাকতে অসহ্যবোধ লাগছে,ভালো লাগছে না বাইরের মুখ না দেখলে।একবারও কি ভেবেছেন ? যাদের ঘর নেই,বাড়ি নেই তারা কিভাবে দিন পার করছে।” আসলে তাই।আমরা নিজেরটার চেয়ে অন্যের সুখ,শান্তি বেশি উপলব্ধি করি।তবে কি জানেন,এটা আমাদের কোন সমস্যা না।এটা এই সমাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার একটা প্রচেষ্টা মাত্র। পথেঘাটে অবস্থান,দলবেঁধে রাত্রিযাপন, একসঙ্গে খাবার গ্রহনের কারনে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকেতে আছে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুরা। করোনার কারনে বাস,ট্রাক,লঞ্চ,রেলগাড়ি সবকিছু বন্ধ থাকায় বিভিন্ন বাজারে দলবেঁধে খাবার সংগ্রহের ফলেই মুলত এই ঝুঁকির মধ্যে আছে তারা।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ আলহাজ্ব মোঃ কওছার আলী গাজী বলেন,পথশিশু সহ ছিন্নমূল মানুষের সংক্রামিত হওয়ার পাশাপাশি করোনাভাইরাসের বাহক হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।কেননা এরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে পথশিশুদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।এ মুর্হুতে রাজধানী সহ দেশের বিভাগীয় শহর থেকে পথশিশুদের উদ্ধার করে সমাজসেবার অধীনে পরিচালিত হোম গুলেতে আশ্রয় দিতে হবে।

এছাড়াও মহিলা ও শিশু বিষায়ক মন্ত্রলয় পরিচালিত পথশিশু পূর্নবাসন কার্যক্রম আওতাধীন সেন্টার ও বিভিন্ন এনজিও পরিচালিত সেন্টার বা হোমগুলোতে রাখতে হবে। আসুন মানবিকতার প্রশস্ততা বাড়িয়ে এগিয়ে যাই পথশিশুর পাশে।অবহেলার চোখে না দেখে তাদের এ বিপদে পাশে দাঁড়াই। করোনায় শুধু নিজের স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালোবাসা দিয়ে আরো কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যায় এই পৃথিবীটাকে। পরিশেষে,ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল পথশিশু,টোকাই এবং রাস্তার ছেলেগুলো।

রিয়াদ হোসেন

সংবাদকর্মী ও কলাম লেখক।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর